চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার বার্ষিক নববর্ষের ভাষণে বলেছেন যে চীন ও তাইওয়ানের পুনর্মিলন অনিবার্য। বেইজিং-এ দেওয়া এই ঘোষণাটি তাইওয়ানকে ঘিরে পিপলস লিবারেশন আর্মির ব্যাপক সামরিক মহড়া সমাপ্ত হওয়ার পরে এসেছে।
শি জিনপিং পুনর্মিলনের অনিবার্যতা তুলে ধরে বলেন, "আমাদের মাতৃভূমির পুনর্মিলন, সময়ের ধারা, অপ্রতিরোধ্য।" চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ মনে করে, যা একটি স্ব-শাসিত দ্বীপ, এবং দীর্ঘদিন ধরে এটিকে সংযুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আসছে, সম্ভাব্যভাবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের মধ্যে চীনের সামরিক অগ্রগতি এবং শি জিনপিং প্রয়োজন মনে করলে তাইওয়ানের উপর হামলা চালানোর সম্ভাব্য ক্ষমতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে এই মন্তব্যগুলো এসেছে। সোমবার ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ায় চীনা নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে তাইওয়ানের প্রধান বন্দরগুলোর অবরোধের অনুকরণে লাইভ-ফায়ার অনুশীলন করা হয়।
এই পরিস্থিতি এই অঞ্চলের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে তুলে ধরে। চীনের অবস্থান তাইওয়ানের উপর তার ঐতিহাসিক দাবির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যেখানে তাইওয়ান তার স্ব-শাসন বজায় রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও, কৌশলগত অস্পষ্টতার নীতি বজায় রেখেছে, যা হামলার ঘটনায় সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
চীনের তৈরি করা "পুনর্মিলন"-এর ধারণার মধ্যে তাইওয়ানকে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের শাসনের অধীনে একীভূত করা জড়িত, সম্ভবত পূর্বে হংকংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা "এক দেশ, দুই ব্যবস্থা" মডেল অনুসরণ করে। তবে, তাইওয়ানের জনমত ক্রমশ দ্বীপের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পক্ষে।
চলমান উত্তেজনা আন্তঃ-প্রণালী সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সংলাপ বাড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব নিরাপত্তার উপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে সম্ভবত চীনের পক্ষ থেকে সামরিক ভঙ্গি বজায় রাখা, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দ্বারা আরও কূটনৈতিক চালচলন এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বারা চলমান মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment